ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট পর্যবেক্ষণে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান ইভার্স ইজাবস জানিয়েছেন, আজ দুপুর পর্যন্ত বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের মধ্যে যথেষ্ট উদ্দীপনা ও প্রাণের সঞ্চার লক্ষ্য করা গেছে।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ইভার্স ইজাবস আশা প্রকাশ করেন, সকালের মতো বিকেলের শেষ সময় পর্যন্ত ভোটারদের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও উৎসাহ অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের নাগরিকরা ভোটাধিকার প্রয়োগে অত্যন্ত আগ্রহী এবং একটি অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের প্রত্যাশা করছেন।
ইইউর এই শীর্ষ পর্যবেক্ষক জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করছে এবং তারা কোনো রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ নন। বর্তমানে সারাদেশে ইইউ পর্যবেক্ষকরা ছড়িয়ে রয়েছেন এবং তাদের কাছ থেকে নিয়মিত অনলাইন প্রতিবেদন ও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
তিনি জানান, সংগৃহীত তথ্য নিবিড়ভাবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে, যাতে একটি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য মূল্যায়ন উপস্থাপন করা সম্ভব হয়। তার মতে, একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে জনগণের ব্যাপক উপস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নির্বাচন পরিচালনার গুণমান ও সার্বিক প্রক্রিয়া নিয়ে ইইউ মিশন শিগগিরই তাদের মূল্যায়ন প্রকাশ করবে বলে জানান ইজাবস। তিনি বলেন, আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে, যেখানে নির্বাচন কীভাবে পরিচালিত হয়েছে এবং মাঠপর্যায়ের চিত্র কেমন ছিল তার বিস্তারিত বিবরণ থাকবে। তাদের কাজ মূলত পর্যবেক্ষণ ও তথ্য সংগ্রহ করা, যাতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী একটি স্বচ্ছ চিত্র বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরা যায়।
কার্জন হল কেন্দ্র পরিদর্শনের সময় ইইউ মিশনের অন্যান্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। তারা কেন্দ্রের বুথগুলো পরিদর্শন করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে ভোটগ্রহণের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
সার্বিক নির্বাচনী পরিবেশে ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতিই এ নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতার বড় মাপকাঠি হয়ে থাকবে বলে তারা মনে করছেন। কূটনৈতিক মহলের ধারণা, ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনটি বাংলাদেশের পরবর্তী গণতান্ত্রিক যাত্রার জন্য গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত হবে।



















