ঢাকা, জুন ২০, সিএমজি বাংলা: ২৩ থেকে ২৬ জুন চীন সফরে যাচ্ছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরকালে তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং এবং প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংয়ের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে অংশ নেবেন। একই সঙ্গে সামার দাভোস ফোরামে অংশ নিয়ে জলবায়ু পরিবর্তন, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও প্রবৃদ্ধি বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরবেন তিনি।
শনিবার ঢাকায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সফরের বিস্তারিত কর্মসূচি তুলে ধরেন দেশটির পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম। তিনি জানান, চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ২৪ থেকে ২৬ জুন বেইজিংয়ে সরকারি সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
প্রতিনিধিদলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়কমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়কমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনসহ ২৮ জন প্রতিনিধি।
তালিয়ানে সামার দাভোস সম্মেলনে অংশগ্রহণ
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, মালয়েশিয়া সফরের পর ২৩ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উত্তর-পূর্ব চীনের লিয়াওনিং প্রদেশের তালিয়ানে অনুষ্ঠিত ১৭তম ‘অ্যানুয়াল মিটিং অব দ্য নিউ চ্যাম্পিয়নস’-এ অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের উদ্যোগে আয়োজিত এ সম্মেলন ‘সামার দাভোস’ নামে পরিচিত।
২৩ জুন ফোরামের প্রেসিডেন্ট ও সিইও আলোইস জুইংগির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন তারেক রহমান। একই দিনে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের এক আলোচনায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখবেন তিনি।
এ ছাড়া, কাজাখস্তান, মঙ্গোলিয়া, দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধানদের সঙ্গে তার দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। সন্ধ্যায় তিনি চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং আয়োজিত নৈশভোজে অংশ নেবেন।
২৪ জুন সকালে সামার দাভোসের উদ্বোধনী অধিবেশনে অংশগ্রহণের পর বিকেলে তিনি বেইজিংয়ের উদ্দেশে তালিয়ান ত্যাগ করবেন।
বেইজিংয়ে বিনিয়োগ ও কূটনৈতিক কর্মসূচি
বেইজিংয়ে অবস্থানকালে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন তিয়াওইয়ুথাইয়ে অবস্থান করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২৫ জুন তিনি বাংলাদেশ বিনিয়োগ ফোরামে অংশ নিয়ে বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের সামনে তুলে ধরবেন।
একই দিনে তিনি বৈঠক করবেন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের প্রধান, চীনের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগিতা সংস্থার চেয়ারম্যান এবং এক্সিম ব্যাংক অব চায়নার চেয়ারম্যানের সঙ্গে।
বৈঠক ও চুক্তি
বিকেলে বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হবেন তারেক রহমান ও লি ছিয়াং। বৈঠকে দুই দেশের অর্থনীতি, বাণিজ্য, অবকাঠামো ও উন্নয়ন সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা হবে। বৈঠক শেষে দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে একাধিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ), চুক্তি ও প্রটোকল স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর চীনের প্রধানমন্ত্রীর আয়োজিত রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে অংশ নেবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।
বেইজিং সফরের দ্বিতীয় দিন
সফরের শেষ দিন ২৬ জুন প্রধানমন্ত্রী চীনের জাতীয় গণকংগ্রেসের স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান চাও ল্যচির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এরপর তিনি প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বহুল প্রতীক্ষিত শীর্ষ বৈঠকে অংশ নেবেন। এই বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।
একই দিনে তিনি থিয়ানআনমেন স্কোয়ারে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। কর্মসূচি শেষে বিকেলে বেইজিং থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিয়ে সন্ধ্যায় দেশে ফিরবেন তিনি।
চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তুতি
পররাষ্ট্র সচিব জানান, দুই দেশের প্রতিনিধি পর্যায়ের আলোচনার ভিত্তিতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো ও উন্নয়ন সহযোগিতা বিষয়ে ১৫টিরও বেশি চুক্তি, সমঝোতা স্মারক ও প্রটোকল চূড়ান্ত করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে ‘কমপ্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক কোঅপারেটিভ পার্টনারশিপ’-এর নতুন উচ্চতায় উন্নীত করার সুযোগ তৈরি হবে এবং দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
এ ছাড়া চীনের চারটি বৈশ্বিক উদ্যোগ—বৈশ্বিক উন্নয়ন, বৈশ্বিক নিরাপত্তা, বৈশ্বিক সভ্যতা ও বৈশ্বিক শাসন উদ্যোগ নিয়ে বাংলাদেশ ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
নাহার/ফয়সল
তথ্য ও ছবি: সিএমজি বাংলা।













