ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠু হলে ফলাফল যাই হোক, তা মেনে নেবেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ড. শফিকুর রহমান। ছোট কোনো ইস্যুতে ছাড় দিলেও বড় বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর মিরপুরে মনিপুর বয়েজ হাই স্কুল মাঠের ভোটকেন্দ্রে ভোটাধিকার প্রয়োগ শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. শফিকুর রহমান বলেন, “বহু বছর দেশবাসী ভোট দিতে পারেননি, আমিও পারিনি। ২০১৪, ’১৮ ও ’২৪ সালে জেলেই ছিলাম, ভোট দেওয়ার সুযোগ পাইনি। এই তিনটা ভোট হারানোর পরে আজকে আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে ভোট দেওয়ার সুযোগ দিয়েছেন। আল্লাহ তায়ালা এই ভোটের মাধ্যমে বাংলাদেশে একটা নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে দিন।”
তিনি আরও বলেন, “শুধু আমি নয়, বিশেষ করে যুব সমাজ যারা জীবনে ভোট দিতে পারেনি, আজকের এই ভোটের জন্য তারা বড় অপেক্ষায় ছিল। এই ভোটটা শান্তিপূর্ণ হোক, সুষ্ঠু হোক, সন্ত্রাসমুক্ত হোক, দখলমুক্ত হোক এবং সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হোক—এটা আমরা দোয়া করি। এই ভোটের মাধ্যমে আগামী দিনে এমন সরকার গঠিত হোক যেই সরকার কোনো ব্যক্তি, পরিবার বা দলের হবে না; বরঞ্চ যে সরকার হবে ১৮ কোটি মানুষের জনগণের সরকার। আমরা সেই সরকার গঠনের ব্যাপারে আশাবাদী।”
সবার সহযোগিতা কামনা করে জামায়াত আমির বলেন, “দেশ আমাদের সবার। এই দেশটা গড়তে হবে সবাই হাতে হাত মিলিয়ে। এজন্য গণমাধ্যমের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। গণমাধ্যম সমাজের চতুর্থ স্তম্ভ। এই চতুর্থ স্তম্ভকে আমরা দেশ গড়ার কাজে আমাদের পাশে চাই।”
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমি কেবল ভোটটা দিলাম। এখন বাকি কেন্দ্রগুলো দেখবো, সারা দেশের খবর নেব। আমরা ছোটখাটো কোনো বিষয় হলে অবশ্যই ইগনোর করবো, কিন্তু বড় কোনো বিষয় হলে ছাড় দেব না, আমাদের যা করা প্রয়োজন তাই করবো। কারণ মানুষের অধিকার হারিয়ে যাক, এটা আমরা কোনোভাবেই চাই না। আমরা চাই সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে ফল হোক। ভোট যখন সুষ্ঠু হবে, নিরপেক্ষ হবে, সেই রেজাল্ট আমরাও মানবো, অন্যদেরকেও মানতে হবে—এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।”
নির্বাচনের সাফল্য কামনা করে তিনি বলেন, “নারী-পুরুষ সবাই মিলে শান্তিপূর্ণভাবে, নিরাপদে, নিঃশঙ্ক চিত্তে যাতে ভোট দিতে পারেন, এজন্য আমি সবার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। সবাই আসুন, যার যার ঘর থেকে বেরিয়ে এসে নিজের অধিকার প্রয়োগ করুন এবং রাষ্ট্র গঠনের গর্বিত অংশীদার হোন, আপনার দায়িত্বটাও পালন করুন।”
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হলেও ভোর থেকেই কেন্দ্রে আসতে থাকেন ভোটাররা। বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সারা দেশে ২৯৯ সংসদীয় আসনে ভোটগ্রহণ চলবে।
দেশের মোট ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এসব কেন্দ্রে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২টি ভোটকক্ষ রয়েছে। এবারের নির্বাচনে মোট ৫০টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করছে।
এই নির্বাচনে মোট ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৩ জন। নারী প্রার্থী ৮৩ জন—যার মধ্যে দলীয় ৬৩ জন ও স্বতন্ত্র ২০ জন।
জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে দেশের ২৯৯টি আসনের মোট ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৩ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন এবং হিজড়া ভোটার ১ হাজার ২৩২ জন।
জামায়াতে ইসলামীর এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচন বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন। এ কারণে ওই আসন বাদে ২৯৯ সংসদীয় আসনে একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।



















