রাজধানী ঢাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। ঢাকার আমিনবাজার ও মাতুয়াইলে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে দুটি পৃথক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে, যেখানে বিনিয়োগ করছে চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার দুটি প্রতিষ্ঠান। রোববার সকালে সচিবালয়ে এ সংক্রান্ত এক বৈঠকে প্রকল্পগুলোর রূপরেখা তুলে ধরা হয়।
বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
বৈঠকে জানানো হয়, চীনের সিএমইসি গ্রুপ ঢাকা উত্তরের আমিনবাজারে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে বিনিয়োগ করবে। প্রকল্পটি প্রতিদিন ঢাকা শহরের প্রায় ৩ হাজার টন বর্জ্য ব্যবহার করে ৪২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে। ২০২৮ সালের আগস্টের মধ্যে প্রকল্পটি জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে আগামী ২৫ বছর বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।
অন্যদিকে, দক্ষিণ কোরিয়ার বি এন্ড সি কোম্পানী ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মাতুয়াইলে একটি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে বছরে বর্জ্য থেকে প্রায় ১৫ হাজার টন মিথেন গ্যাস উৎপাদিত হবে, যা থেকে বছরে মোট প্রায় ৮১ হাজার মেগাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। এটি দৈনিক প্রায় ২২১ মেগাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদনের সমতুল্য।
এ ছাড়া এ প্রকল্প থেকে সৌরবিদ্যুৎ, সার, পশুখাদ্য এবং পরিবেশবান্ধব ইকো-ব্রিকস উৎপাদন করা হবে। এ প্রকল্পে প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার টন বর্জ্য ব্যবহার করা হবে। এটি বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং বৈশ্বিক উষ্ণায়ন প্রশমনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
প্রকল্প দুটি দ্রুত এগিয়ে নিতে প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় সরকার, বিদ্যুৎ ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক আয়োজনের নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে দুটি প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সূত্র: সিএমজি










