চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের আমন্ত্রণে নামিবিয়ার প্রেসিডেন্ট নেতুম্বো নান্দি নদাইতওয়া এক সপ্তাহের রাষ্ট্রীয় সফরে চীনে আসেন। ২০২৫ সালের মার্চ মাসে নামিবিয়ার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর চীনে এটি তাঁর প্রথম সফর।
শুক্রবার অনুষ্ঠিত বৈঠকে, সি এবং নান্দি যৌথভাবে ঘোষণা করেন যে, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে ‘নতুন যুগে যৌথ ভবিষ্যতের চীন-নামিবিয়া কমিউনিটি’র পর্যায়ে উন্নীত করা হবে। তাঁরা অর্থনীতি ও বাণিজ্য, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং মানবসম্পদসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে একাধিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টিও প্রত্যক্ষ করেন।
প্রেসিডেন্ট নান্দি এই চীন সফরে অর্থনীতি, বাণিজ্য, সংস্কৃতি, প্রযুক্তি এবং জীবনযাত্রার মানোন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত একটি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন। আলোচনার সময় প্রেসিডেন্ট সি জোর দিয়ে বলেন যে, অবকাঠামো, জ্বালানি, খনিজ সম্পদ আহরণ, কৃষি, শিক্ষা, যুব বিনিময় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে নামিবিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা আরও গভীর করতে চীন প্রস্তুত।
প্রেসিডেন্ট সি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে তিন দফা প্রস্তাবও পেশ করেন: শাসন সংক্রান্ত অভিজ্ঞতার আদান-প্রদান জোরদার করা, উচ্চ-মানের সহযোগিতার সম্ভাবনা কাজে লাগানো এবং যৌথভাবে আন্তর্জাতিক ন্যায্যতা ও ন্যায়বিচার সমুন্নত রাখা।
চায়না ইনস্টিটিউট অফ ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ-এর ‘উন্নয়নশীল দেশ বিষয়ক গবেষণা বিভাগ’-এর পরিচালক সু সিয়াওহুই উল্লেখ করেন যে, এই সফর উন্নয়নশীল দেশ এবং আফ্রিকায় কার্যক্রম পরিচালনাকারী চীনা প্রতিষ্ঠান—উভয়ের জন্যই উন্নয়নের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
দক্ষিণ-পশ্চিম আফ্রিকায় অবস্থিত নামিবিয়ার ভূখণ্ড মূলত মরুভূমি-প্রধান এবং এর জনসংখ্যা ৩০ লাখের কিছু বেশি। ১৯৯০ সালে স্বাধীনতা লাভের মাধ্যমে এটি আফ্রিকার অন্যতম নবীন সার্বভৌম রাষ্ট্রে পরিণত হয়। দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং সুশাসনের সুবাদে নামিবিয়া একটি অনুকূল ব্যবসায়িক পরিবেশ গড়ে তুলেছে এবং জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে ব্যাপক উন্নয়ন কৌশল প্রণয়ন করেছে।
মাহমুদ হাশিম










