জুন ২৩, সিএমজি বাংলা ডেস্ক: বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা বাড়তে থাকায় আসিয়ান ও চীনের মধ্যে আরও শক্তিশালী অংশীদারত্ব গড়ে তোলা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন আসিয়ানের মহাসচিব কাও কিম হোর্ন। সোমবার জাকার্তায় তিনি উভয় পক্ষকে শান্তি, সমৃদ্ধি এবং টেকসই উন্নয়ন এগিয়ে নিতে সহযোগিতা আরও গভীর করার আহ্বান জানান।
আসিয়ান-চীন সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারত্বের পঞ্চম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ‘জাকার্তা ফোরাম ২০২৬’-এ বক্তব্য দিতে গিয়ে কাও এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, আসিয়ান-চীন সম্পর্ক ধারাবাহিকভাবে বিকশিত হয়েছে এবং আরও গতিশীল হয়ে উঠেছে। চীন ও আসিয়ান একে অপরের প্রধান বাণিজ্য অংশীদার হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে এবং ২০২৫ সালে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা আরও জটিল হয়ে উঠছে, অর্থনৈতিক বিভাজন ত্বরান্বিত হচ্ছে, জলবায়ুজনিত চাপ বাড়ছে এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতি অনেক শাসন কাঠামোর সক্ষমতাকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে তিনি বলেন, শক্তিশালী আসিয়ান-চীন অংশীদারত্ব ‘শুধু কাম্য নয়, বরং অপরিহার্য’।
ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে তিনি পাঁচটি অগ্রাধিকার ক্ষেত্রের কথা উল্লেখ করেন। এগুলো হলো—শান্তি ও স্থিতিশীলতা, ডিজিটাল রূপান্তর ও উদ্ভাবন, জ্বালানি সহযোগিতা, আন্তঃসীমান্ত হুমকির বিরুদ্ধে সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ ও বিনিময় জোরদার করা।
আসিয়ানে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ওয়াং ছিং বক্তব্যে বলেন, চীন ও আসিয়ান অভিন্ন ভবিষ্যতের ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই উভয় পক্ষ সুস্থ ও স্থিতিশীল উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারে।
ওয়াং বলেন, চীন ও আসিয়ানকে উন্মুক্ততা ও সহযোগিতার নীতিতে অটল থাকতে হবে। পাশাপাশি চীন-আসিয়ান মুক্ত বাণিজ্য এলাকা ৩.০ উন্নয়ন প্রোটোকল বাস্তবায়ন ত্বরান্বিতকরণ, আরও উন্মুক্ত আঞ্চলিক অভিন্ন বাজার গড়ে তোলা ও পারস্পরিক লাভজনক সহযোগিতার মাধ্যমে আঞ্চলিক খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিশীলতা জোরদার করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ডিজিটাল অর্থনীতি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, নীল অর্থনীতি এবং কৃষি খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণ করা উচিত, যাতে অঞ্চলের সব জনগণ অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের সুফল ভোগ করতে পারে।
সাকিব/জেনিফার
তথ্য ও ছবি: সিজিটিএন
















