জুন ২৩, সিএমজি বাংলা ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে চলমান অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতার মধ্যে চীনের সাথে সম্পর্ক আরও গভীর করতে এবং দেশের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফর একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করবে। সম্প্রতি বার্তা সংস্থা সিনহুয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই মন্তব্য করেছেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ‘সাউথ এশিয়ান ইনস্টিটিউট অফ পলিসি অ্যান্ড গভর্ন্যান্স’-এর পরিচালক ড. এস কে তৌফিক এম হক।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর মাত্র কয়েক মাস পার হয়েছে। এর মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা বাংলাদেশের মতো জ্বালানি আমদানিকারক দেশগুলোর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ বিনিয়োগ আকর্ষণ, উন্নয়ন সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং জ্বালানি খাতের অংশীদারিত্ব জোরদার করতে বন্ধুভাবাপন্ন ও প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে আরও শক্তিশালী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক খুঁজছে। আর এই জায়গায় চীন এখন বাংলাদেশের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি দেশ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
ড. তৌফিক বলেন, এই সফরে বিনিয়োগ, বাণিজ্য, ব্যবসা ও জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে চীনের কাছ থেকে আরও নিবিড় সহযোগিতা আশা করছে বাংলাদেশ। তিনি বলেন, “দেশের মানুষ এই সফর থেকে অত্যন্ত ফলপ্রসূ কিছু অর্জনের অপেক্ষায় রয়েছে।” বাংলাদেশের গণমাধ্যম ও সংবাদপত্রগুলোতে এই সফর নিয়ে চলমান আলোচনা ও ব্যাপক জনআগ্রহেরই প্রতিফলন ঘটছে বলে তিনি জানান।
২০১৬ সালে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ উদ্যোগে যোগ দেয় এবং শুরু থেকেই এতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে আসছে। এই সফরটির পর বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার অর্থনৈতিক সহযোগিতা এক নতুন গতি পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন এই বিশেষজ্ঞ।
বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলোর মধ্যে একটি ‘আদর্শ সম্পর্ক’ হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।
বিশেষ করে জ্বালানি সহযোগিতার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ এই খাতটিতে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে নজর দিচ্ছে। বাংলাদেশ, চীন, মিয়ানমার এবং অন্যান্য প্রতিবেশী দেশগুলো সম্মিলিতভাবে এই খাতে সহযোগিতার নতুন নতুন ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে।
সাক্ষাৎকারের শেষে ড. তৌফিক এম হক বলেন, “এমন একটি সময়ে এই সফরটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন গ্লোবাল সাউথসহ পুরো বিশ্ব এক ধরনের অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।” এই দৃষ্টিকোণ থেকে, বাংলাদেশ-চীন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক যেন উভয় দেশের নিজস্ব উন্নয়ন কৌশলকে আরও নিরাপদ ও সুরক্ষিত করতে পারে, তা নিশ্চিত করার জন্য এই সফর বাংলাদেশের সামনে একটি বড় সুযোগ।
নাহার/ ফয়সল
তথ্য ও ছবি- সিনহুয়া














