খুনমিং, জুন ২৩, সিএমজি বাংলা: বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চলমান চীন সফর দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের সাবেক রাষ্ট্রদূত লি চিমিং । তিনি বলেছেন, ঢাকা-বেইজিং সম্পর্ক বর্তমানে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে।
সোমবার চীনের ইয়ুননান প্রদেশে অবস্থিত ইয়ুননান বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া তরুণ নেতাদের এক বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
দীর্ঘ সময় বাংলাদেশে দায়িত্ব পালন করা সাবেক এই রাষ্ট্রদূত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এ সফরকে ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “এই সফরের মধ্য দিয়ে দু’দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের এক নতুন অধ্যায় রচিত হবে এবং উভয় দেশ একটি ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে যাচ্ছে।”
বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনকালীন নিজের অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে লি চিমিং আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, “আমি বাংলাদেশের জনগণের সাহস ও অধ্যাবসায়ের সাক্ষী হওয়ার সুযোগ পেয়েছিলাম। আমার মেয়াদকালেই বাংলাদেশের অর্থনীতি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করে, যা নিজ চোখে দেখার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। সে কারণেই নিজেকে আমি বাংলাদেশের একজন প্রকৃত বন্ধু মনে করি এবং চীনের বিভিন্ন সভা ও জনপরিসরে সবসময় বাংলাদেশের প্রশংসা করি।”
বক্তব্য শেষে চীনের প্রতিষ্ঠাতা মাও সেতুংয়ের একটি বিখ্যাত উক্তি তুলে ধরে তিনি বাংলাদেশের তরুণ প্রতিনিধিদের উদ্দেশে বলেন, পৃথিবীর ভবিষ্যৎ শেষপর্যন্ত তরুণদের কাঁধেই ন্যস্ত। বাংলাদেশের উন্নয়ন এবং দুই দেশের বন্ধুত্বের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎও এই তরুণদের ওপরই নির্ভর করছে।
সেন্টার ফর চায়না স্টাডিজ (সিসিএস) এবং শাংহাই ইনস্টিটিউটস ফর ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (এসআইএস)-এর আমন্ত্রণে গত ২১ জুন থেকে ১০ দিনের সফরে বাংলাদেশে ২২ সদস্যের একটি তরুণ প্রতিনিধি দল বর্তমানে চীনে অবস্থান করছে। ইয়ুননানের খুনমিংয়ে স্থানীয় সময় দুপুর ২টায় ইয়ুননান বিশ্ববিদ্যালয়ের হুইচ্য হলে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে এসআইএসের সভাপতি ছেন তোংসিয়াও বলেন, “বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পর থেকে পারস্পরিক সম্মান, সহযোগিতা ও সমর্থনের ভিত্তিতে এই সম্পর্ক ক্রমাগত মজবুত হয়েছে, যা আজ দক্ষিণ এশিয়ায় সহযোগিতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।”
তিনি আরও যোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফর দু’দেশের কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারিত্বে নতুন গতি সঞ্চার করবে। সিসিএস গত এক বছরে বাংলাদেশি তরুণ নেতা ও কূটনীতিকদের চীন সফরের আয়োজন করে টেকসই উন্নয়নে দারুণ ভূমিকা রাখছে।
অনুষ্ঠানে ইয়ুননান বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ স্টাডিজের প্রধান চু সিয়ংকুয়াং দুই দেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে আরও গভীর করতে ভাষা, শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর জোর দেন। তিনি উল্লেখ করেন, দুই দেশের এই সম্পর্ক কেবল কূটনৈতিক ফল নয়, বরং হাজার বছরের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত।
তিনি জানান, বর্তমানে প্রায় ২০ হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী চীনে পড়াশোনা করছেন, যার মধ্যে শুধু ইয়ুননান প্রদেশেই রয়েছেন প্রায় ২ হাজার শিক্ষার্থী।
অনুষ্ঠানটিতে সভাপতিত্ব করেন ইয়ুননান বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও বিনিময় কার্যালয়ের পরিচালক উ ইয়ুন।
বাংলাদেশি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে আছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের প্রভাষক আগা মোস্তাফিজুর রহমান। এ ছাড়া দলে আছেন বাংলাদেশ স্পেশাল ব্রাঞ্চের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাওন শায়লা,অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার ফজলুল করিম, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সিনিয়র রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট ফখরুদ্দিন আল কবিরসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সাংবাদিক প্রতিনিধি।
লুৎফর/নাহার
তথ্য ও ছবি- সিএমজি বাংলা















