জুন ২০: সম্প্রতি, মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণের পর মিন অং হ্লাইং প্রথমবারের মতো চীনে একটি রাষ্ট্রীয় সফর করেছেন। এই সফরের মাধ্যমে তিনি দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। এর আগে দশবারেরও বেশি সময় চীন সফর করা মিন অং হ্লাইং নিজের চোখে ‘চীনা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত আধুনিকায়ন’-এর উন্নয়ন যাত্রা প্রত্যক্ষ করেছেন। তিনি বলেন, “নতুন যুগের সূচনালগ্ন থেকে চীন যে অভাবনীয় অগ্রগতি অর্জন করেছে, তা আজ বিশ্ববাসীর কাছে অত্যন্ত স্পষ্ট ও দৃশ্যমান।”
তিনি চীনের “বেল্ট অ্যান্ড রোড” উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, এটি মিয়ানমারের জন্য প্রচুর উন্নয়নের সুযোগ নিয়ে এসেছে। তাঁর ভাষায়—”এই উদ্যোগটি কেবল মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ উন্নয়নেই সাহায্য করছে না, বরং আমাদের পুরো বিশ্বের সাথে সংযুক্ত হওয়ার একটি অনন্য মাধ্যম হিসেবে গড়ে তুলছে।”
সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ মতামত তুলে ধরেন।
মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং বলেন, “আমি মহামান্য প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের আন্তরিক আমন্ত্রণে এবার চীনে রাষ্ট্রীয় সফরে এসেছি। এই সফরের মূল লক্ষ্য হলো মিয়ানমার ও চীনের মধ্যকার ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করা, মিয়ানমারের জাতীয় উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করা এবং চীনের সাথে প্রতিটি ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করা। এর পাশাপাশি, আমরা চীনা উদ্যোক্তাদের মিয়ানমারে বিনিয়োগ করতে উৎসাহিত করতে চাই, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য খাতকে উন্নত করতে চাই এবং যৌথ প্রচেষ্টায় দুই দেশের সীমান্ত অঞ্চলের নিরাপত্তা, শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষা করতে চাই।”
তিনি বলেন: “প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং হলেন এমন একজন দূরদর্শী নেতা—যিনি সত্যিকার অর্থেই তাঁর দেশকে হৃদয়ে ধারণ করেন। আমি লক্ষ্য করেছি, প্রতিবার যখনই তাঁর সাথে আমার সাক্ষাৎ হয়েছে, তিনি সবসময় শান্তি, স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা এবং সামষ্টিক উন্নয়নের মতো মৌলিক দর্শনগুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন। আমি বহুবার চীন সফর করেছি এবং প্রতিটি সফরেই চীনের বিভিন্ন অঞ্চলের বৈপ্লবিক ও ইতিবাচক পরিবর্তন আমি নিজের চোখে দেখেছি। চীন একটি বিশাল দেশ, যার জনসংখ্যা প্রায় ১৪০ কোটি—যা সমগ্র বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় পাঁচভাগের একভাগ। এত বড় একটি জনসংখ্যা ও আয়তনের দেশকে অভিন্ন উন্নয়নের পথে নেতৃত্ব দেওয়া অত্যন্ত কঠিন ও দুরূহ কাজ, যার জন্য প্রয়োজন এক অনন্য ও অসাধারণ নেতৃত্ব। আর ঠিক এই কারণেই প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের নেতৃত্বের প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা ও প্রশংসা রয়েছে।”
সাক্ষাত্কালে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং বলেন, “নতুন যুগে চীন প্রতিটি ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী প্রগতি অর্জন করেছে। বিশেষ করে অবকাঠামো নির্মাণ এমন একটি খাত, যেখানে আমাদের দুই দেশেরই যৌথ সহযোগিতার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া উচিত। এছাড়া চীনের উন্নত প্রকৌশল প্রযুক্তি, ইলেকট্রনিক্স, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, অ্যারোস্পেস বা মহাকাশ প্রযুক্তি, উন্নত বীজ প্রজনন এবং শিল্প উৎপাদনসহ অসংখ্য খাতে বিশাল সহযোগিতার সম্ভাবনা লুকিয়ে রয়েছে। আমাদের উচিত চীন-মিয়ানমার সহযোগিতার পরিধিকে আরও প্রসারিত করা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের আকারকে আরও বড় করা।”
(শুয়েই/তৌহিদ/তুহিনা)












