মে ১৪, সিএমজি বাংলা ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী নেতারা চীনা বাজারের প্রতি তাদের আস্থা প্রকাশ করেছেন এবং ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির জন্য বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচিত এই বাজারে বিনিয়োগ সম্প্রসারণের অঙ্গীকার করেছেন।
প্রযুক্তি, অর্থনীতি, বিমান চলাচল ও কৃষিসহ বিভিন্ন খাতের শীর্ষ মার্কিন নির্বাহীদের সমন্বয়ে গঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের ব্যবসায়িক প্রতিনিধি দল বুধবার বেইজিংয়ে পৌঁছেছে। তারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সফরসঙ্গী হিসেবে চীন সফর করছেন। তাদের মতে, বিশাল বাজার, দ্রুত উদ্ভাবনের সক্ষমতা এবং স্থিতিশীল সরবরাহ শৃঙ্খল চীনকে বিশেষভাবে আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, এই প্রতিনিধি দলের উপস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে দুই অর্থনীতিকে যুক্ত করে রাখা বাণিজ্যিক সম্পর্ক এতটাই গভীর যে তা বিচ্ছিন্ন করা সহজ নয়।
ট্রাম্পের ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্ট অনুযায়ী, ট্রাম্পের সঙ্গে সফররত শীর্ষ ব্যবসায়িক নেতা ও প্রধান নির্বাহীদের মধ্যে রয়েছেন জেনসেন হুয়াং, টিম কুক, ইলন মাস্ক, ক্রিস্টিয়ানো আমন, ল্যারি ফিঙ্ক এবং কেলি অর্টবার্গ। এছাড়া প্রতিনিধি দলে জিই অ্যারোস্পেস, গোল্ডম্যান স্যাচেস, সিটি, মাস্টারকার্ড, ভিসা, ব্ল্যাকস্টোন এবং কার্গিল কর্মকর্তারাও রয়েছেন।
চায়না ডেইলিকে মাস্টারকার্ডের সিইও মাইকেল মিয়েবাখ বলেন, ‘চীন বিশ্বের অন্যতম গতিশীল অর্থনীতি এবং মাস্টারকার্ড দীর্ঘমেয়াদে এই বাজারের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
তিনি বলেন, “২০২৪ সালের মে মাসে আমরা দেশীয় লেনদেন প্রক্রিয়াকরণ শুরু করার পর থেকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি, স্থানীয় অংশীদারিত্ব জোরদার এবং সহজ ও নিরাপদ ‘ট্যাপ অ্যান্ড গো’ সেবা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছি।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে প্রভাবশালী কিছু প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীদের এই উপস্থিতি স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে যে, বছরের পর বছর শুল্ক আরোপ, রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতার উত্তপ্ত আলোচনার পরও চীন মার্কিন ব্যবসার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বাজার হিসেবে রয়ে গেছে।
ছেন ওয়েনলিং বলেন, ‘দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক আকর্ষণ এখনও বিশাল। বাণিজ্য উত্তেজনা ও ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি ছায়া ফেললেও চীন-যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক পরিপূরকতার মৌলিক শক্তি বিলীন হয়ে যায়নি।’
শন স্টেইন বলেন, ‘তারা বিশ্বের দুটি বৃহত্তম অর্থনীতি- কেবল এটা বললে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি বাদ পড়ে যায়। তারা একই সঙ্গে বিশ্বের সবচেয়ে গতিশীল ও উদ্ভাবনী অর্থনীতি।’
যুক্তরাষ্ট্রে চীনা দূতাবাসের গত নভেম্বরে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ৮০ হাজারের বেশি মার্কিন কোম্পানি চীনে বিনিয়োগ করেছে এবং প্রায় সাত হাজার চীনা প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
প্রতিনিধি দলের অন্তর্ভুক্ত কোম্পানিগুলোর পাশাপাশি বিভিন্ন শিল্পখাতের মার্কিন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও বাস্তব পদক্ষেপের মাধ্যমে চীনা বাজারের প্রতি তাদের আস্থা প্রদর্শন অব্যাহত রেখেছে।
হেনরি ডিং বলেন, ‘সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ৩এম চীনে নিজেদের উৎপাদন কার্যক্রম সম্প্রসারণ, স্থানীয় গবেষণা ও উন্নয়ন সক্ষমতা জোরদার এবং গবেষণা, পরীক্ষা ও উৎপাদনজুড়ে পূর্ণ মূল্য শৃঙ্খলের স্থানীয়করণ ত্বরান্বিত করেছে।’
গত নভেম্বরে সাংহাইয়ে অনুষ্ঠিত ৮ম চীন আন্তর্জাতিক আমদানি মেলায় মার্কিন কোম্পানিগুলো সবচেয়ে বড় প্রদর্শনী এলাকা দখল করে। তাদের প্যাভিলিয়নগুলোর মোট আয়তন ছিল ৫০ হাজার বর্গমিটারের বেশি, যা টানা সপ্তমবারের মতো সব বিদেশি অংশগ্রহণকারীর মধ্যে শীর্ষ অবস্থান নিশ্চিত করে।
তথ্য ও ছবি: সিএমজি


















