মে ১৪, সিএমজি বাংলা ডেস্ক: চীনের তিনটি ভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধারকৃত ৪ লাখ বছরের পুরনো আদিম মানুষের ছয়টি দাঁতের প্রোটিন বিশ্লেষণ করে পূর্ব এশিয়ার প্রাচীনতম জেনেটিক উপাদানের সন্ধান পাওয়া গেছে। এই আবিষ্কার আধুনিক মানুষের শরীরে প্রাচীন জিন কীভাবে প্রবেশ করেছিল, সে সম্পর্কে সম্পূর্ণ নতুন ধারণা দিচ্ছে।
গবেষকরা দাঁতের এই প্রোটিনগুলোতে দুটি গুরুত্বপূর্ণ রূপান্তর বা মিউটেশন শনাক্ত করেছেন। এই মিউটেশনটি ছয়টি জীবাশ্ম দাঁতেই পাওয়া গেছে, যা আগে অন্য কোনো মানব প্রজাতি, আধুনিক মানুষ বা বনমানুষের মধ্যে দেখা যায়নি। এটি প্রমাণ করে যে, চীনের তিনটি ভিন্ন স্থান থেকে পাওয়া শারীরিকভাবে বৈচিত্র্যময় জীবাশ্মগুলো আসলে একই জেনেটিক গোষ্ঠীভুক্ত ছিল।
দ্বিতীয় মিউটেশনটি মিউটেশনটি কেবল সাইবেরিয়ার গুহায় আবিষ্কৃত রহস্যময় প্রাচীন মানব প্রজাতি ‘ডেনিসোভান’-দের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। কিন্তু বর্তমান গবেষণায় দেখা গেছে, এই একই মিউটেশন ৪ লক্ষ বছরের পুরনো দাঁতেও বিদ্যমান, যা ইঙ্গিত দেয় যে ‘হোমো ইরেক্টাস’ প্রজাতিও এই বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ছিল।
এই গবেষণার সবচেয়ে চমকপ্রদ দিক হলো—এটি প্রমাণ করছে যে পূর্ব এশিয়ার এই প্রাচীন জনসংখ্যা এবং ডেনিসোভানদের মধ্যে প্রজনন সম্পর্ক ছিল। গবেষকদের মতে, এই মিউটেশনটি সম্ভবত প্রাচীন পূর্ব এশীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে উদ্ভূত হয়েছিল এবং পরে ডেনিসোভানদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।
পূর্ব এশিয়ার হোমো ইরেক্টাস কেবল একটি স্বতন্ত্র বিবর্তনীয় ধারা ছিল না, বরং আধুনিক মানুষের জিন পুলের অন্যতম উৎস ছিল।
এই আবিষ্কারটি দীর্ঘদিনের এই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে, হোমো ইরেক্টাসরা কেবল একটি বিলুপ্ত প্রজাতি ছিল। বরং তারা আধুনিক মানুষের ডিএনএ গঠনে সরাসরি অবদান রেখেছে।
তথ্য ও ছবি: সিএমজি



















