চরম দুর্ভোগে এলাকাবাসী, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা-বাণিজ্য !
নির্মাণকাজ শুরুর দুই বছর পার হলেও শেষ হয়নি নগরীর ২৭নং ওয়ার্ডের মিস্ত্রিপাড়া খালপাড় সড়কের কাজ।
পুরনো পিচ ঢালাই তুলে দীর্ঘদিন ধরে বালু ও খোয়া ফেলে রাখায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকাবাসী। চলাচলে ভোগান্তি, বাড়তি ভাড়া, ব্যবসায় মন্দা—সব মিলিয়ে স্থবির হয়ে পড়েছে পুরো এলাকা।
এলাকাবাসী জানায়, মিস্ত্রিপাড়া খালপাড় সড়ক ও ড্রেন নির্মাণের জন্য ২০২২ সালে টেন্ডার আহ্বান করা হয়। ড্রেন নির্মাণের কাজ পান ঠিকাদার খলিল এবং সড়কের কাজ পান ঠিকাদার মোকাম্মেল হোসেন।
দীর্ঘ দুই বছর পর ড্রেনের কাজ শেষ হলেও সড়কের কাজ এখনো সম্পন্ন হয়নি। ফলে প্রতিদিনই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পথচারী, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের।
স্থানীয় বাসিন্দা জিএম নূরউজ্জামান বলেন, আমার মেয়ে এবার এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। রাস্তা খারাপ থাকায় নিরালা হয়ে জিলা স্কুল কেন্দ্রে যেতে হয়েছে। এতে অতিরিক্ত রিকশা ভাড়া গুনতে হয়েছে, পাশাপাশি চরম ভোগান্তিও সহ্য করতে হয়েছে।
ক্রোকোরাইজ ব্যবসায়ী শিহাব জানান,রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে দোকানে ঠিকমতো খরিদ্দার আসে না। কয়েক বছর ধরেই ব্যবসায় মারাত্মক মন্দা চলছে।
আরেক বাসিন্দা মুজিবর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
ঠিকাদারের খামখেয়ালিপনার কারণে চলাচলই কঠিন হয়ে পড়েছে। কেউ অসুস্থ হলে অ্যাম্বুলেন্সে নিতে গেলেও রোগীর অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়। আমাদের দুর্ভোগ দেখার যেন কেউ নেই।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, একই সময়ে দোলখোলা, পূর্ব বানিয়াখামার ও মিস্ত্রিপাড়া আরাফাত মসজিদ সড়কের কাজ শুরু হয়ে ইতোমধ্যে কার্পেটিং সম্পন্ন হয়েছে। অথচ মিস্ত্রিপাড়া খালপাড় সড়ক এখনো পড়ে আছে অবহেলায়।
এ বিষয়ে সড়কের ঠিকাদার মোকাম্মেল হোসেন বলেন, ওয়াসার স্যুয়ারেজ লাইনের কাজ চলমান থাকায় বিলম্ব হয়েছে। শনিবার থেকে কাজ পুনরায় শুরু হবে।
খুলনা সিটি করপোরেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী প্রকৌশলী লিমন জানান, খুব দ্রুত কাজ শুরু করে শেষ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘদিনের এই অব্যবস্থাপনায় ক্ষোভে ফুঁসছেন এলাকাবাসী। দ্রুত সড়ক নির্মাণ শেষ করে স্বাভাবিক জনজীবন ফিরিয়ে আনার দাবি তাদের।



















