শুক্রবার , ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ | ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. অপরাধ
  2. আন্তর্জাতিক
  3. এভিয়েশন
  4. কৃষি
  5. ক্যাম্পাস
  6. খেলাধুলা
  7. চায়না কর্ণার
  8. ছবি
  9. জনপ্রিয়
  10. জাতীয়
  11. ডেঙ্গু
  12. ধর্ম
  13. নারী ও শিশু
  14. প্রবাস
  15. প্রযুক্তি

ফ্ল্যাট ও জমির নিবন্ধন খরচ ৫০ শতাংশ কমানোর সুপারিশ.

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
জানুয়ারি ৩০, ২০২৬ ১০:১০ পূর্বাহ্ণ

Spread the love

ফ্ল্যাট ও জমি কেনার ক্ষেত্রে নিবন্ধন ব্যয় ৫০ শতাংশ কমানোর সুপারিশ করেছে জাতীয় কর কাঠামো পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত কমিটি। ফ্ল্যাট নিবন্ধনের সময় বর্তমানে যে কর ও নিবন্ধন ফি পরিশোধ করতে হয়, তা অর্ধেকে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) বাংলাদেশের চেয়ারম্যান জায়েদী সাত্তার–এর নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় কর কাঠামো পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত কমিটি গত মঙ্গলবার প্রধান উপদেষ্টার কাছে তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়। ওই প্রতিবেদনে এই সুপারিশগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যেকোনো স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি উপহার দেওয়ার ক্ষেত্রে বাজারমূল্যের ১ শতাংশ হারে কর কেটে রাখার বিধান চালু করা যেতে পারে। বর্তমানে মা–বাবা, স্ত্রী–সন্তান ও ভাই–বোনের মধ্যে টাকা-পয়সাসহ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরে কোনো কর আরোপ করা হয় না।

ফ্ল্যাট ও প্লটের বর্তমান নিবন্ধন কর কাঠামো

বর্তমানে জমি বা সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে উৎসে কর ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকায় ৫ শতাংশ, অন্যান্য সিটি করপোরেশন এলাকায় ৩ শতাংশ এবং পৌরসভা এলাকায় ২ শতাংশ হারে আদায় করা হয়।

এ ছাড়া জমি, প্লট ও ফ্ল্যাট নিবন্ধনের সময় উৎসে করের পাশাপাশি দেড় শতাংশ স্ট্যাম্প শুল্ক, ১ শতাংশ নিবন্ধন ফি, ৩ শতাংশ স্থানীয় সরকার ফি এবং ২ থেকে সাড়ে ৪ শতাংশ ভ্যাট দিতে হয়। এর মধ্যে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৬০০ বর্গফুট আয়তনের ফ্ল্যাটে ২ শতাংশ এবং এর বেশি আয়তনের ফ্ল্যাটে সাড়ে ৪ শতাংশ ভ্যাট প্রযোজ্য। জমি বা প্লটে ভ্যাট নির্ধারিত আছে ২ শতাংশ।

ফলে ঢাকার গুলশান এলাকায় ১ হাজার ৬০০ বর্গফুটের কম আয়তনের একটি ফ্ল্যাট নিবন্ধনে মোট খরচ দাঁড়ায় প্রায় সাড়ে ১২ শতাংশ।

১০ লাখ টাকা পর্যন্ত আবগারি শুল্ক মওকুফের প্রস্তাব

ব্যাংকে জমা থাকা ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত আমানতের ওপর আবগারি শুল্ক পুরোপুরি প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছে কমিটি। বর্তমানে ব্যাংকে ১০ লাখ থেকে ৫০ লাখ টাকা জমা থাকলে ৩ হাজার টাকা আবগারি শুল্ক দিতে হয়।

এখনকার নিয়ম অনুযায়ী, ব্যাংক হিসাবে ৩ লাখ টাকার বেশি টাকা থাকলে ন্যূনতম ১৫০ টাকা আবগারি শুল্ক আরোপ করা হয়। এই সীমা বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রতিবছর জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে কোনো ব্যাংক হিসাবে আমানত বা স্থিতির পরিমাণ যদি একবারও তিন লাখ টাকা বা তার বেশি স্তর স্পর্শ করে, তাহলে নির্ধারিত হারে আবগারি শুল্ক কাটা হয়। একাধিকবার সীমা স্পর্শ করলেও শুল্ক কাটা হয় মাত্র একবার।

ফেসবুকভিত্তিক ব্যবসাকে করের আওতায় আনার প্রস্তাব

ফেসবুক পেজের মাধ্যমে পরিচালিত ব্যবসা বা এফ-কমার্স খাতকে করের আওতায় আনার সুপারিশ করেছে কমিটি। এ জন্য একটি সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সারচার্জ ও ন্যূনতম কর বাতিলের সুপারিশ

বর্তমানে চার কোটি টাকার বেশি সম্পদ থাকলে আয়করের পরিমাণের ওপর নির্ভর করে সারচার্জ দিতে হয়। জাতীয় কর কাঠামো পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত কমিটি এই সারচার্জ বাতিলের সুপারিশ করেছে।

এ ছাড়া রিটার্ন জমার সময় করযোগ্য আয় থাকলে ন্যূনতম ৫ হাজার টাকা কর দিতে হয়। এতে করমুক্ত আয়সীমার সামান্য ওপরে থাকা ছোট করদাতাদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয় বলে মনে করছে কমিটি। তাই ন্যূনতম কর দেওয়ার বিধান তুলে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

একক ভ্যাট হারের দিকে যাওয়ার পরামর্শ

মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ব্যবস্থায় একাধিক হারের পরিবর্তে একক ভ্যাট হার চালুর সুপারিশ করেছে কমিটি। বর্তমানে ভ্যাটের মূল হার ১৫ শতাংশ হলেও বিভিন্ন খাতে ভিন্ন ভিন্ন হারে ভ্যাট নির্ধারণ করা হয়েছে, যা কর ব্যবস্থাকে জটিল করে তুলেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কমিটির মতে, একক ভ্যাট হার চালু হলে কর ব্যবস্থার স্বচ্ছতা বাড়বে এবং কর আদায় প্রক্রিয়া আরও সহজ হবে।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো

সর্বশেষ - খেলাধুলা