আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে স্থিতিশীল ভূমিকা পালনকারী দেশ হিসেবে চীনের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সহযোগিতা গড়ে তুলতে আগ্রহী বাংলাদেশ। এমন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
সম্প্রতি চায়না গ্লোবাল টেলিভিশন নেটওয়ার্ককে (সিজিটিএন) দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের শক্তিশালী অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক বিদ্যমান। টানা ১৬ বছর ধরে চীন বাংলাদেশের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে।
দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। কিছু বাণিজ্যিক জোট ও দেশ বিশ্বায়ন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংহতি থেকে সরে আসার প্রবণতা দেখাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক বাণিজ্যের ধারাবাহিকতা ও সংহতি বজায় রাখতে চীনের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে সচল ও সমন্বিত রাখতে চীনের নেতৃত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চীন যদি তার যথাযথ ভূমিকা পালন করে, তাহলে বৈশ্বিক বাণিজ্যের গতি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব হবে।‘
বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরে চীনা বিনিয়োগকারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎ, পাট, চামড়া এবং ওষুধ শিল্পে বিনিয়োগের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে।
মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ১১ কোটি কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী রয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় সম্ভাবনার ক্ষেত্র তৈরি করেছে। একই সঙ্গে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে সরকার বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছে।
তিনি বলেন, সরকার ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি বৃহৎ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে, যেখানে চীনা বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে। এছাড়া পাট ও চামড়া শিল্পে বিনিয়োগের পাশাপাশি বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পের জন্যও চীনের বাজারে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, চীনা বিনিয়োগকারী ও সরকারের সহযোগিতায় এসব খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন সম্ভব হবে, যা শুধু বাংলাদেশ বা চীনের বাজার নয়, বরং বৈশ্বিক বাজারের জন্যও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও সম্প্রসারিত হলে তা দুই দেশের উন্নয়ন ও আঞ্চলিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে নতুন মাত্রা দেবে।
সিএমজি বাংলা












