টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে খেলতে নেমেই ক্রিকেট বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিল নেপাল। সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডকে কার্যত কাঁপিয়ে দিয়ে দর্শকদের হৃদয় জয় করলেও শেষ পর্যন্ত ভাগ্য সহায় হয়নি হিমালয়ের দেশটির। অবিশ্বাস্য লড়াইয়ের পরও শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে মাত্র ৪ রানে হারতে হলো নেপালকে।
জয়ের একেবারে দোরগোড়ায় গিয়ে তরী ডুবল নেপালের। ইংলিশ পরীক্ষায় ‘এক বাউন্ডারির’ এই আক্ষেপ তাদের দীর্ঘদিন পোড়াবে।
সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের চাপে ফেলেও হারাতে পারেনি নেপাল। ভাগ্য সহায় হলে ম্যাচের ফল ভিন্ন হতে পারত। শেষ দিকে এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল ম্যাচ, যেখানে ইংল্যান্ডের পরাজয় প্রায় নিশ্চিত বলেই মনে হচ্ছিল।
শেষ তিন ওভারে নাটকীয় লড়াই
জয়ের জন্য শেষ তিন ওভারে নেপালের প্রয়োজন ছিল ৪৬ রান। কঠিন এই সমীকরণকে সম্ভব করে তোলার ইঙ্গিত দেয় ১৮তম ওভারেই—তিনটি ছক্কায় ওই ওভারে আসে ২২ রান। ম্যাচে ফিরে আসে নেপাল।
শেষ দুই ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন দাঁড়ায় ২৪ রান। ১৯তম ওভারে লোকেশ বামের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে দুটি বাউন্ডারিসহ আসে ১৪ রান। ফলে শেষ ওভারে জয়ের জন্য দরকার হয় মাত্র ১০ রান।
কিন্তু শেষ ওভারে স্যাম কারানের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে বাউন্ডারি হাঁকাতে ব্যর্থ হয় নেপাল। ওই ওভারে আসে মাত্র ৫ রান। ফলে তীরে গিয়ে নেপালের স্বপ্নভঙ্গ হয়।
নেপালের দুর্দান্ত ব্যাটিং
১৮১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৬ উইকেটে ১৮০ রান করে নেপাল।
- লোকেশ বাম ২০ বলে অপরাজিত ৩৯
- দীপেন্দ্র সিং আইরি ২৯ বলে ৪৪
- অধিনায়ক রোহিত পুডাল ৩৪ বলে ৩৯
- ওপেনার কুশল ভুর্তেল ১৭ বলে ২৯ রান করেন
ইংল্যান্ড জিতলেও ম্যাচের শেষদিকে তাদের চোখেমুখে স্পষ্ট ছিল পরাজয়ের আতঙ্ক। চাপের মুখে একাধিক মিসফিল্ড করে বসে ব্রিটিশরা। হারতে হারতেও শেষ পর্যন্ত জয় তুলে নেয় ইংল্যান্ড।
ইংল্যান্ডের ইনিংস
রোববার মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড় স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় ইংল্যান্ড। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৮৪ রান তোলে তারা।
জশ বাটলার শুরুতেই ঝড় তোলেন। মাত্র ২৭ বলে ৪৩ রানের তাণ্ডব চালান তিনি। ১৭ বলে ২৬ রান করে ফেরেন বাটলার। এরপর ফিল সল্ট ২ বলে ১ রান করে আউট হলে ৫৭ রানে দুই উইকেট হারায় ইংল্যান্ড।
তৃতীয় উইকেটে জ্যাকব বেথেল ৩৫ বলে ৪টি চার ও ৪টি ছক্কায় করেন ৫৫ রান। অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক করেন ৩২ বলে ৫৩ রান। শেষদিকে উইল জ্যাকস ১৮ বলে এক চার ও চার ছক্কায় অপরাজিত ৩৮ রানের ক্যামিও খেলেন।
ম্যাচের ফল
শেষ পর্যন্ত ৪ রানের ব্যবধানে জয় পায় ইংল্যান্ড।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এ এটি ইংল্যান্ডের টুর্নামেন্ট শুরুর ম্যাচ। আর হারলেও ক্রিকেটবিশ্বকে বুঝিয়ে দিয়েছে—নেপাল এখন আর ছোট দল নয়।



















