রবিবার , ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. অপরাধ
  2. আন্তর্জাতিক
  3. এভিয়েশন
  4. কৃষি
  5. ক্যাম্পাস
  6. খেলাধুলা
  7. চায়না কর্ণার
  8. ছবি
  9. জনপ্রিয়
  10. জাতীয়
  11. ডেঙ্গু
  12. ধর্ম
  13. নারী ও শিশু
  14. প্রবাস
  15. প্রযুক্তি

ভোটের মাসে দেশ, প্রচারণায় উত্তাপ

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
ফেব্রুয়ারি ১, ২০২৬ ২:২৭ পূর্বাহ্ণ

Spread the love

ভোটের মাসে প্রবেশ করেছে দেশ। আর মাত্র ১১ দিন পর আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হতে যাচ্ছে। গত ২২ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে সারা দেশে। পরস্পরের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক বক্তব্যে ভোটের মাঠে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে।

নির্বাচনি আচরণবিধি ভঙ্গ করে একে অপরের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক ও অশালীন বক্তব্য দেওয়া হলেও নির্বাচন কমিশন (ইসি) অনেকটাই নির্বিকার। এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যাচ্ছে না।

আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, আচরণবিধি প্রতিপালন তদারকির জন্য প্রতিটি উপজেলা বা থানায় দুইজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং প্রতিটি সংসদীয় আসনে নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি কাজ করছে। পাশাপাশি কমিশনের কাছে যেসব অভিযোগ আসছে, সেগুলোর বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আওয়ামী লীগ ছাড়াই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ফলে এবারের নির্বাচনে প্রধান রাজনৈতিক শক্তিগুলো একে অপরকে আক্রমণাত্মক বক্তব্যের মাধ্যমে ঘায়েল করার চেষ্টা করছে। এর ফলে নির্বাচনি পরিবেশ অনেকটাই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ভোটের মাঠের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নোংরা ভাষা ও আক্রমণ-পালটা আক্রমণ চলছে প্রতিনিয়ত। তবে এসব বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো মনিটরিং চোখে পড়ছে না।

ইসির তফসিল অনুযায়ী, ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগ পর্যন্ত অর্থাৎ ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাতটা পর্যন্ত প্রার্থীরা নির্বাচনি প্রচারণা চালাতে পারবেন। নির্বাচনের দিন ভোটগ্রহণ চলবে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত। সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে হওয়ায় এবার ভোট প্রদানের সময় এক ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে।

গত ২২ জানুয়ারি প্রচারণা শুরুর পর থেকেই প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দল বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী পরস্পরের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিয়ে আসছে। বিএনপির পক্ষ থেকে জামায়াতের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে দলটির ভূমিকা, ধর্মের অপব্যবহার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা এবং ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তোলা হচ্ছে। অপরদিকে জামায়াত বিএনপির বিরুদ্ধে দলটির নেতাদের অতীত দুর্নীতি, নেতাকর্মীদের দখল ও চাঁদাবাজি এবং ‘নব্য ফ্যাসিবাদী’ হয়ে ওঠার অভিযোগ করছে।

এ ছাড়া উভয় পক্ষই ‘বিদেশি আধিপত্য’ ইস্যুকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সামনে আনছে। বিএনপি জামায়াতকে পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডির প্রভাবাধীন বলে আখ্যা দিচ্ছে। আর জামায়াত বিএনপির বিরুদ্ধে ভারতের দিল্লিকেন্দ্রিক আধিপত্য চাপানোর অভিযোগ তুলছে। সব মিলিয়ে এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার পাশাপাশি মুখোমুখি রাজনৈতিক লড়াই আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, আগামী দিনগুলোতে এই আক্রমণাত্মক বক্তব্যের মাত্রা আরও বাড়তে পারে।

নির্বাচনি প্রচার শুরুর আগেই বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, জামায়াতের নারী কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে নারীদের বিভ্রান্ত করছেন এবং এনআইডি কার্ড ও মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করছেন। এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন স্থানে জামায়াতের নারী কর্মীদের অবরুদ্ধ করা এবং কোথাও কোথাও হামলার ঘটনাও ঘটেছে। জামায়াত আমিরের নির্বাচনি এলাকাতেও এ ধরনের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

ঢাকায় নির্বাচনি প্রচারে গিয়ে গত সপ্তাহে ডিম হামলার শিকার হন ঢাকা-৮ আসনের জামায়াত-এনসিপিসহ ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। এ ঘটনার পর তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে গ্যাংস্টার ও চাঁদাবাজসহ বিভিন্ন আপত্তিকর অভিযোগ করেন। পাল্টা হিসেবে বিএনপি জামায়াত-এনসিপি জোটের প্রার্থীর বিরুদ্ধে উসকানিমূলক ও অশালীন বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ তোলে। ফলে এই আসনে নির্বাচনি উত্তেজনা আরও বেড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে তীব্র আলোচনা চলছে।

এসব ঘটনার বাইরে দেশের বিভিন্ন আসনে বাকবিতণ্ডা থেকে সংঘর্ষে রূপ নেওয়ার ঘটনাও ঘটছে। বিশেষ করে ধর্ম ও ধর্মীয় পরিভাষা ব্যবহার করে ভোট চাইতে গিয়ে কোথাও কোথাও সহিংসতার সৃষ্টি হচ্ছে। নির্বাচনি প্রচারণায় ধর্মের ব্যবহার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। সংস্থাটি এক বিবৃতিতে বলেছে, নির্বাচনি প্রচারে ধর্ম ব্যবহার করা কিংবা অন্য ধর্মাবলম্বীদের ওপর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ চাপ সৃষ্টি করে ভোট চাওয়ার প্রবণতা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

জামায়াতের আমিরসহ কেন্দ্রীয় নেতারা, এনসিপি এবং ডাকসুর ভিপির বক্তব্যে বিএনপির বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক ও বিদ্বেষমূলক ভাষা ব্যবহার করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণভাবে নির্বাচন আচরণবিধি পরিপন্থী। নির্বাচনি আচরণবিধির ১৫ ধারায় স্পষ্টভাবে বলা আছে—নির্বাচনি প্রচারণাকালে কোনো ব্যক্তি বা প্রার্থী ব্যক্তিগত কুৎসা রটনা, অশালীন, আক্রমণাত্মক, উসকানিমূলক বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগে এমন বক্তব্য দিতে পারবেন না।

তবুও আচরণবিধিকে উপেক্ষা করে প্রতিনিয়ত রাজনৈতিক নেতারা এমন বক্তব্য দিয়ে গেলেও নির্বাচন কমিশন কার্যত নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ইসির তথ্যমতে, গত ৮ জানুয়ারি থেকে গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সারা দেশে আচরণবিধি লঙ্ঘনের ২১৩টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় ১৩৭টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং জরিমানা আদায় করা হয়েছে ১৩ লাখ ৯৪ হাজার ৩০০ টাকা। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার ২১টি সংসদীয় আসনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনায় ১৮টি মামলা দায়ের করা হয় এবং এক লাখ ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

সর্বশেষ - খেলাধুলা