যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক ইরানে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। তেহরান যদি এ ধরনের হামলার জবাবে ইসরায়েলকে লক্ষ্যবস্তু করে পাল্টা আঘাত হানে, সে পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) সব ফ্রন্টে পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে।
ইসরায়েলের নর্দান কমান্ডের প্রধান মেজর জেনারেল রাফি মিলো রোববার (২৫ জানুয়ারি) বলেন, মধ্যপ্রাচ্য ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ও শক্তিবৃদ্ধির বিষয়টি তারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। চ্যানেল ১২ নিউজকে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি জানান, মার্কিন হামলা শুরু হলে ইরান ইসরায়েলকে সরাসরি লক্ষ্য করতে পারে—এই আশঙ্কা মাথায় রেখেই আইডিএফ সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
বিশেষ করে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ এই সম্ভাব্য সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে কি না, সে বিষয়েও কড়া নজর রাখা হচ্ছে বলে জানান মিলো। তিনি বলেন, যেকোনো দিক থেকে আক্রমণ এলে তাৎক্ষণিক ও শক্ত জবাব দেওয়ার সক্ষমতা আইডিএফের রয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে কড়া ভাষায় সতর্ক করেছেন। তিনি বলেছেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের হত্যা বা গণ-ফাঁসির মতো মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক হস্তক্ষেপে বাধ্য হবে। এয়ার ফোর্স ওয়ানে অবস্থানকালে ট্রাম্প জানান, ‘সতর্কতামূলক ব্যবস্থা’ হিসেবে ইরানের দিকে একটি বিশাল নৌবহর পাঠানো হচ্ছে।
মার্কিন নৌবাহিনীর কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনসহ একাধিক যুদ্ধজাহাজ বর্তমানে ভারত মহাসাগরে অবস্থান করছে। অন্যদিকে ইরান স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে, তাদের ওপর যেকোনো ধরনের হামলাকে তারা ‘সর্বাত্মক যুদ্ধ’ হিসেবে বিবেচনা করবে এবং তার উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।
এই যুদ্ধংদেহি পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে মধ্যপ্রাচ্যের বিমান চলাচলে। ইসরায়েলি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের প্রধান শমুয়েল জাকাই বিদেশি এয়ারলাইনসগুলোর কাছে পাঠানো এক চিঠিতে সতর্ক করে বলেন, অঞ্চলটি একটি ‘অত্যন্ত সংবেদনশীল সময়ের’ মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। প্রয়োজনে আবারও ইসরায়েলের আকাশসীমা বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জুনে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ১২ দিনের যুদ্ধ চলাকালে আকাশসীমা বন্ধ থাকায় হাজার হাজার যাত্রী বিভিন্ন দেশে আটকা পড়েছিলেন।
ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক বেশ কয়েকটি এয়ারলাইনস মধ্যপ্রাচ্যে তাদের ফ্লাইট বাতিল করতে শুরু করেছে। ডাচ এয়ারলাইন কেএলএম ঘোষণা দিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তারা তেল আবিব, দুবাই ও রিয়াদে ফ্লাইট পরিচালনা করবে না এবং ইরাক, ইরান ও ইসরায়েলের আকাশসীমা এড়িয়ে চলবে।
অন্যদিকে, এয়ার ফ্রান্স দুবাইয়ে ফ্লাইট চালু করলেও পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছে। ইসরায়েলের এল আল, আরকিয়া ও ইসরাইর এয়ারলাইনস যাত্রীদের জন্য টিকিট বাতিলের শর্ত শিথিল করেছে।
বর্তমানে আবহাওয়া-জনিত কারণে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু ফ্লাইট বাতিল হলেও ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর স্বাভাবিকভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তবে যাত্রী ও এয়ারলাইনসগুলোর মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সূত্র: দ্য টাইমস অব ইসরায়েল



















