ভূমিকম্প-পরবর্তী মেট্রোরেল পরিষেবা: নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সাময়িক স্থগিত, পুরোদমে চলছে পরিদর্শন
ঢাকা, ২২ নভেম্বর, ২০২৫ – আজ ভোরে হওয়া তীব্র ভূমিকম্পের পর রাজধানীর গণপরিবহণ ব্যবস্থার অন্যতম স্তম্ভ ঢাকা মেট্রোরেল (মাস র্যাপিড ট্রানজিট বা এমআরটি) পরিষেবা সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। যাত্রী ও অবকাঠামোগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সাময়িক স্থগিতাদেশ ও কারণ
ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার পরপরই মেট্রোরেল পরিচালনাকারী সংস্থা ডিএমটিসিএল (ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড) দ্রুত কার্যকর প্রোটোকল অনুসরণ করে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেয়। ডিএমটিসিএল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, সমস্ত ট্রেনকে নিকটস্থ স্টেশনে থামিয়ে যাত্রীদের নিরাপদে বের করে আনা হয়েছে।
”যাত্রী সুরক্ষাই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। প্রাথমিক ধাক্কার পর পরই আমাদের প্রকৌশলীরা দ্রুত পুরো লাইন এবং স্টেশনগুলোর কাঠামোগত অখণ্ডতা (Structural Integrity) পরীক্ষা করা শুরু করেছেন। যতক্ষণ না প্রতিটি পিলার, ভায়াডাক্ট, রেল ট্র্যাক, এবং স্টেশনের কাঠামো শতভাগ নিরাপদ বলে প্রত্যয়ন করা হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত বাণিজ্যিক চলাচল শুরু হবে না,” এমডি বলেন।
পুরোদমে চলছে পরিদর্শন ও কারিগরি দল
কর্তৃপক্ষ জানায়, রেললাইন, সিগন্যালিং সিস্টেম, বিদ্যুতের সাবস্টেশন এবং স্টেশন ভবনের ফাটল বা কোনো কাঠামোগত দুর্বলতা চিহ্নিত করতে একাধিক বিশেষজ্ঞ দল নিবিড় পরিদর্শন চালাচ্ছে।
ভায়াডাক্ট পরিদর্শন: ড্রোন ও বিশেষ স্ক্যানিং যন্ত্রপাতির সাহায্যে মাটির উপরে থাকা রেললাইন (ভায়াডাক্ট) এবং এর পিলারে কোনো মাইক্রো-ফাটল তৈরি হয়েছে কিনা, তা পরীক্ষা করা হচ্ছে।
ট্র্যাক ও সিগন্যালিং: রেল ট্র্যাকের অ্যালাইনমেন্ট এবং সিগন্যালিং ব্যবস্থার ইলেকট্রনিক ফাংশনাল সক্ষমতা যাচাই করা হচ্ছে।
ভূ-কারিগরি পর্যবেক্ষণ: মাটির নিচের সাবস্টেশনগুলোতে কোনো মাটি ধস বা স্থানচ্যুতি হয়েছে কিনা, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।জনগণের প্রতি কর্তৃপক্ষের বার্তা
ডিএমটিসিএল জনগণকে ধৈর্য ধরার এবং কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দেওয়া পরবর্তী সরকারি ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ানো থেকে বিরত থাকতেও অনুরোধ করা হয়েছে।
পরবর্তী পদক্ষেপ: কর্তৃপক্ষ আশা করছে, আজকের দিনের মধ্যেই অন্তত একটি ‘ক্ষতিগ্রস্ত নয়’ অংশের পরিদর্শন শেষ হবে এবং আগামীকাল (২৩ নভেম্বর) সকালের মধ্যে আংশিক পরিষেবা শুরু করা সম্ভব হতে পারে। তবে, এটি নির্ভর করছে কারিগরি দলগুলোর চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ওপর।



















