বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিডিও প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ প্রকল্পের দরপত্র মূল্যায়নে পিপিআর-২০০৮ এবং কিউসিবিএস (QCBS) পদ্ধতির নিয়ম উপেক্ষা করে অনিয়ম ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠেছে। সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান ‘আরশিনগর মিডিয়া’কে বঞ্চিত করে বিপুল বাজেটের অন্য প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ এনে জাতীয় প্রকিউরমেন্ট বিভাগের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।
অভিযোগপত্র সূত্রে জানা গেছে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সাভারের পরমাণু শক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠান (AERE) গত ৭ মে, ২০২৬ তারিখে একটি স্থানীয় দরপত্র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে (স্মারক নং: ৩৯.০১.২৬৭২.২৪০.০৭.২০৭.২৬)। বিজ্ঞপ্তির আওতাধীন প্যাকেজটি ছিল— পরমাণু শক্তি কমিশনের জন্য গ্রাফিক্স-সমৃদ্ধ ২০ মিনিটের বাংলা ও ইংরেজি তথ্যচিত্র এবং একটি সংক্ষিপ্ত ইংরেজি সংস্করণ নির্মাণ।
গত ২১ মে, ২০২৬ তারিখে দরপত্র উন্মোচনের পর অংশগ্রহণকারী ৪টি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক প্রস্তাবের বিবরণী আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হয়। বিবরণী অনুযায়ী দরদাতার তালিকা নিম্নরূপ:
১. আরশিনগর মিডিয়া: ১১,৫৩,৭০৫/- টাকা (সর্বনিম্ন দরদাতা)
২. ব্যাক অ্যান্ড ক্রিয়েটরস স্টুডিও: ১৭,৩০,৫২০/- টাকা
৩. ধূসর স্বপ্ন: ১৮,৮১,৬০০/- টাকা
৪. অদ্রিতা ভিজ্যুয়ালস: ২১,৮০,০০০/- টাকা
দরপত্র বিজ্ঞপ্তির ৬ নম্বর কলামের শর্তানুযায়ী, এই উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি (OTM) মূল্যায়নে পিপিআর-২০০৮ এর আলোকে QCBS (Quality and Cost Based Selection) বা গুণগত মান ও ব্যয়ভিত্তিক নির্বাচন পদ্ধতি অনুসরণ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
অভিযোগকারী প্রতিষ্ঠান আরশিনগর মিডিয়ার কর্মকর্তা জানান, বিজ্ঞপ্তির ১৬ নম্বর কলামে উল্লেখিত সমস্ত আবশ্যিক যোগ্যতা ও শর্তাবলী— যেমন: তথ্যচিত্র নির্মাণে ন্যূনতম ৫ বছরের অভিজ্ঞতা, সরকারি প্রতিষ্ঠানে বিজ্ঞানভিত্তিক ও কম্পিউটার গ্রাফিক্সের প্রামাণ্য কাজ, হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স, ব্যাংক সলভেন্সি ও ভ্যাট-ট্যাক্স সার্টিফিকেটসহ সব ধরণের নিয়ম মেনে তারা দরপত্র দলিল জমা দিয়েছিলেন।
তিনি অভিযোগ করেন, “আর্থিক প্রস্তাবে আরশিনগর মিডিয়া স্পষ্ট ব্যবধানে সর্বনিম্ন দরদাতা (Lowest Bidder) হওয়া এবং কারিগরি সমস্ত শর্ত শতভাগ পূরণ করা সত্ত্বেও আমাদের মূল্যায়ন প্রক্রিয়া থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে আমাদের চেয়ে বিপুল পরিমাণ বেশি বাজেট দেওয়া বাকি প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর যোগ্যতা বিজ্ঞপ্তির শর্ত কতটুকু পূরণ করেছে, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।”
পিপিআর-২০০৮ এবং কিউসিবিএস নিয়মের তোয়াক্কা না করে সর্বনিম্ন দরদাতাকে বঞ্চিত করার এই প্রক্রিয়াটিতে কোনো ধরণের প্রশাসনিক অনিয়ম বা স্বজনপ্রীতি হয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখার জোর দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠানটি।
সরকারি প্রকিউরমেন্ট প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে উক্ত দরপত্র মূল্যায়ন প্রক্রিয়াটি পুনরায় নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করার জন্য জাতীয় প্রকিউরমেন্ট বিভাগের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।














