আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনের পর নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে থাকা সব ধরনের অস্পষ্টতা দূর করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি জানিয়েছেন, নির্বাচন শেষ হওয়ার পর দ্রুততম সময়ের মধ্যেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে এবং আগামী ১৭ অথবা ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই নতুন সরকার দায়িত্ব নিতে পারে।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর ফরেইন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে শফিকুল আলম বলেন, নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পরপরই নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করবেন। এরপরই নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হবে।
তিনি বলেন,
‘দ্রুততার বিষয়টি বিবেচনায় নিলে সর্বোচ্চ তিন দিনের মধ্যেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব। সে হিসেবে ১৫, ১৬ অথবা ১৭-১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারে।’
একই সংবাদ সম্মেলনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদ নিয়ে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন গুঞ্জনের বিষয়ে স্পষ্ট বক্তব্য দেন প্রধান উপদেষ্টার ডেপুটি প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন, সরকার ১৮০ কার্যদিবস ক্ষমতায় থাকবে—এমন দাবি সম্পূর্ণ অপপ্রচার ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
তিনি আরও বলেন,
‘সরকার শুরু থেকেই পরিষ্কারভাবে জানিয়েছে, নির্বাচন শেষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী দলের হাতে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব তুলে দিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সরে যাবে। এ বিষয়ে কোনো বিভ্রান্তির সুযোগ নেই।’
১৮০ কার্যদিবস নিয়ে চলমান আলোচনার ব্যাখ্যায় ডেপুটি প্রেস সচিব জানান, এই সময়সীমাটি মূলত নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের জন্য প্রযোজ্য, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জন্য নয়।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, নির্বাচনের পর সংসদ সদস্যরা সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি গণপরিষদের সদস্য হিসেবেও কাজ করবেন। বিশেষ করে ‘জুলাই চার্টার’ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্কার প্রস্তাবের ধারা ও উপধারার আইনি ভাষা চূড়ান্ত করার জন্য এই সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই সংস্কার প্রক্রিয়ায় বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কোনো ভূমিকা থাকবে না।



















