বাংলাদেশি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে কেন্দ্র করেই শুরু হয়েছে সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বড় বিতর্ক। আইপিএল থেকে মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার ঘটনাকে ঘিরে একের পর এক প্রতিক্রিয়া ও সিদ্ধান্ত বিশ্ব ক্রিকেটে তৈরি করেছে অস্থিরতা।
মোস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার পর নিরাপত্তা শঙ্কার কথা জানিয়ে বাংলাদেশ ভারতে ম্যাচ না খেলার অনুরোধ জানায়। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে এবং পরবর্তীতে বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়। এর প্রতিবাদে বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানিয়ে পাকিস্তান বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা দেয়। এসব ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে মোস্তাফিজুর রহমানের বাদ পড়ার ঘটনা।
আইসিসির সাবেক হেড অব কমিউনিকেশন্স সামি-উল-হাসান বার্নি মনে করেন, বিষয়টি শুরু থেকেই আরও দায়িত্বশীলভাবে সামলানো হলে এত বড় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতো না। বার্তা সংস্থা পিটিআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন,
‘ক্রিকেট প্রশাসকরা যদি আরও সতর্ক হতেন এবং কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি থেকে একজন বাংলাদেশি খেলোয়াড়কে বাদ দিতে হবে— এমন ঘোষণা প্রকাশ্যে না দিতেন, তাহলে পরিস্থিতি এতদূর গড়াত না। এটি জনসমক্ষে জানানোর কোনো প্রয়োজন ছিল না।’
তিনি আরও বলেন,
‘ফ্র্যাঞ্চাইজিকে ব্যক্তিগতভাবে বিষয়টি জানানো যেত, খেলোয়াড়কে নীরবে ছেড়ে দেওয়া যেত। তাহলে এই ইস্যু এত বড় আকার নিত না।’
বিসিসিআইয়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বার্নি বলেন,
‘কখনো কখনো বিচার-বুদ্ধির সামান্য ভুলের প্রভাব অনেক বিস্তৃত হয়। ৩ জানুয়ারির সেই ঘোষণাটিই এই পুরো পরিস্থিতির মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
ভারত ও বাংলাদেশের বিরোধের সমাধান পাকিস্তানের দায়িত্ব কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে বার্নি বলেন,
‘আমরা একমত হই বা না-ই হই, কোনো সরকার যখন সিদ্ধান্ত নেয়, তখন তারা দৃশ্যমান বিষয় ছাড়াও বহু কৌশলগত দিক বিবেচনা করে।’
এদিকে আইসিসি ইঙ্গিত দিয়েছে, ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বর্জনের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে পারে। এর মধ্যে আর্থিক জরিমানা ও রাজস্ব হারানোর ঝুঁকি রয়েছে। তবে বার্নির মতে, এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পাকিস্তান সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কে সচেতন ছিল।
তিনি বলেন,
‘এ ধরনের সিদ্ধান্ত সহজ নয়। অবশ্যই আইনি ও বিশেষজ্ঞ পরামর্শ নেওয়া হয়েছে।’
বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কট করলে পাকিস্তানের ক্ষতির পরিমাণ ২৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত হতে পারে। বার্নি জানান,
‘পাকিস্তানের বার্ষিক আয় প্রায় ৩৫.৫ মিলিয়ন ডলার। সেই তুলনায় এই ক্ষতির অঙ্ক অত্যন্ত বড়।’



















