বৃহস্পতিবার , ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. অপরাধ
  2. আন্তর্জাতিক
  3. এভিয়েশন
  4. কৃষি
  5. ক্যাম্পাস
  6. খেলাধুলা
  7. চায়না কর্ণার
  8. ছবি
  9. জনপ্রিয়
  10. জাতীয়
  11. ডেঙ্গু
  12. ধর্ম
  13. নারী ও শিশু
  14. প্রবাস
  15. প্রযুক্তি

নিউমুরিং টার্মিনাল ইজারা নিয়ে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি ঠেকানো সম্ভব না: নৌ উপদেষ্টা

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৬ ৩:০৩ অপরাহ্ণ

Spread the love

নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা নিয়ে বৈশ্বিক অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি পুরোপুরি ঠেকানো সম্ভব নয়, তবে চুক্তির ধরন ও শর্তের বিষয়ে সরকারের নিজস্ব অবস্থান থাকবে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রাম বন্দর ভবনের সামনে বিক্ষোভরত শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

নৌ উপদেষ্টা বলেন,
‘ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি ঠেকানো সম্ভব না। কিন্তু চুক্তি কোন লেভেলে হবে—সে বিষয়ে আমি আমার বক্তব্য দিয়ে এসেছি। আশা করি কোনো চুক্তিতে কোনো কিছু চাপিয়ে দেওয়া হবে না।’

শ্রমিকদের চলমান কর্মবিরতির কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, শ্রমিকরা যে দাবিগুলো তুলেছেন সরকার সেগুলো বিবেচনায় নিচ্ছে। তবে এরপরও যদি তারা কাজে না ফেরেন বা যারা কাজ করতে চান তাদের বাধা দেন, তাহলে সরকার হার্ড লাইনে যেতে বাধ্য হবে

তিনি বলেন,
‘সামনে পবিত্র রমজান মাস। বন্দরে রমজানের বিপুল পরিমাণ পণ্য রয়েছে। এই সময়ে পোর্ট বন্ধ রেখে এমন কর্মসূচি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটা মানুষকে কষ্ট দেওয়া। এটা অমানবিক। এই কষ্টের দায়ভার কে নেবে? পোর্ট বন্ধ রাখার এখতিয়ার কারো নেই।’

শ্রমিক আন্দোলনের উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন উপদেষ্টা। তিনি বলেন,
‘আমি শ্রমিক নেতাদের আশ্বস্ত করেছি। এরপরও যদি তারা আশ্বস্ত না হন, তাহলে বলতে হবে তাদের অন্য কোনো মতলব আছে।’

এনসিটি ইজারা সংক্রান্ত বিষয়টি বর্তমানে উচ্চ আদালতে বিচারাধীন—এ প্রসঙ্গে এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন,
‘আদালত এখনো কোনো সিদ্ধান্ত দেননি। আদালত যদি বলেন এই চুক্তি করা যাবে না, তাহলে আমাদের আদালতের আদেশের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’

চুক্তি প্রক্রিয়ায় তাড়াহুড়ো বা অস্বচ্ছতার অভিযোগ নাকচ করে তিনি বলেন,
‘চুক্তি নিয়ে কোনো তাড়াহুড়ো হচ্ছে না। গত ছয় মাস ধরে ডিপি ওয়ার্ল্ডের প্রতিনিধিরা বন্দরে আসছেন। গত তিন মাস ধরে আলোচনা চলছে। এখানে তাড়াহুড়োর প্রশ্নই আসে না।’

দেশের স্বার্থ রক্ষার বিষয়ে দৃঢ় অবস্থান তুলে ধরে নৌ উপদেষ্টা বলেন,
‘দেশের স্বার্থবিরোধী কোনো চুক্তি এই সরকার করবে না। অন্তত আমি যতদিন আছি, তা হতে দেব না।’

এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপদেষ্টা বন্দর ভবনে পৌঁছালে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে পড়েন। উত্তেজিত শ্রমিকদের বাধার কারণে তার গাড়িবহর প্রায় ২০ মিনিট আটকে থাকে।

পরে বন্দর ভবনে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ও বন্দর কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে শ্রমিকদের দুইজন প্রতিনিধিকে চট্টগ্রাম বোট ক্লাবে আলোচনার প্রস্তাব দেন উপদেষ্টা। তবে শ্রমিকরা বন্দর ভবনের বাইরে আলোচনা বসতে অস্বীকৃতি জানান।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কোনো আলোচনা ছাড়াই শ্রমিকদের দুয়োধ্বনির মধ্যে বন্দর ভবন ত্যাগ করেন উপদেষ্টা।

পরবর্তীতে সংকট নিরসনের উদ্যোগ হিসেবে দুপুর আড়াইটার দিকে তিনি আবার বন্দর ভবনে ফিরে আসেন এবং শ্রমিকদের ১৪ সদস্যের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন নৌ উপদেষ্টা।

এরপর বিকেলে তিনি চট্টগ্রাম বোট ক্লাবে ‘পোর্ট ইউজার্স ফোরাম’-এর নেতাদের সঙ্গে আরেকটি মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।

সর্বশেষ - খেলাধুলা