রবিবার , ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১৯শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
  1. অপরাধ
  2. আন্তর্জাতিক
  3. এভিয়েশন
  4. কৃষি
  5. ক্যাম্পাস
  6. খেলাধুলা
  7. ছবি
  8. জনপ্রিয়
  9. জাতীয়
  10. ডেঙ্গু
  11. ধর্ম
  12. নারী ও শিশু
  13. প্রবাস
  14. প্রযুক্তি
  15. ফটো গ্যালারি

অর্ধলক্ষাধিক শিক্ষক পদ শূন্য: সংকটে পাঠদান, ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীরা

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
ফেব্রুয়ারি ১, ২০২৬ ২:১২ পূর্বাহ্ণ

Spread the love

দেশজুড়ে তীব্র শিক্ষকসংকটে ধুঁকছে শিক্ষা খাত। সারা দেশে বর্তমানে ৩৩ হাজারের বেশি বেসরকারি এমপিওভুক্ত স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অর্ধলক্ষাধিক এন্ট্রি লেভেলের সহকারী শিক্ষক পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য পড়ে আছে। অথচ দেশের অধিকাংশ শিক্ষার্থীই এসব প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করে। শিক্ষক সংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

এনটিআরসিএ সূত্রে জানা গেছে, এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মোট ৬৭ হাজার ২০৮টি শিক্ষক ও প্রভাষক পদের বিপরীতে নিয়োগের সুপারিশ পেয়েছেন মাত্র ১১ হাজার ৭১৩ জন প্রার্থী। ফলে স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৫৫ হাজার ৪৯৫টি পদ শূন্যই থেকে গেছে।

বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) গত বুধবার দুপুরে শিক্ষক নিয়োগের সপ্তম বা বিশেষ নিয়োগ প্রক্রিয়ার ফল প্রকাশ করে। তবে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় থাকা কঠোর শর্তের কারণে বিপুলসংখ্যক নিবন্ধনধারী প্রার্থী এই নিয়োগের বাইরে রয়ে গেছেন।

এনটিআরসিএর নীতিমালা অনুযায়ী, ৩৫ বছরের বেশি বয়সী নিবন্ধনধারীরা নিয়োগে আবেদন করতে পারেন না। পাশাপাশি যেসব প্রার্থীর নিবন্ধন সনদের মেয়াদ তিন বছরের বেশি সময় আগে শেষ হয়েছে, তারাও এই নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারেননি। এই দুই শর্তের কারণে প্রায় দেড় লাখ নিবন্ধনধারী প্রার্থী বারবার আবেদনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

এদিকে প্রথম থেকে দ্বাদশ শিক্ষক নিবন্ধনে উত্তীর্ণ নিয়োগবঞ্চিত সনদধারী প্রার্থীরা গত দুই বছর ধরে রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। সম্প্রতি আন্দোলনরত এসব শিক্ষক এনটিআরসিএ কার্যালয়ের সামনে অবস্থানকালে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। গত ১৫ জানুয়ারি রাজধানীর গুলশানে নিজের বাসভবন থেকে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে যাওয়ার পথে গাড়ি থেকে নেমে তিনি শিক্ষকদের দাবি শোনেন।

এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষকরা দ্রুত নিয়োগ, দীর্ঘসূত্রতা নিরসন ও ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানান। শিক্ষকদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন তারেক রহমান এবং তাদের দাবির প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেন। তিনি আশ্বাস দেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। তার এই আকস্মিক সাক্ষাতে আন্দোলনরত শিক্ষকরা উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠেন।

শিক্ষাবিদরা বলছেন, একদিকে দেড় লাখ নিবন্ধনধারী শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে আন্দোলন করছেন, অন্যদিকে এনটিআরসিএ শিক্ষক সংকটের কথা বলছে—এটি চরম বৈপরীত্য। শর্তের বেড়াজালে পড়ে শিক্ষক যেমন বঞ্চিত হচ্ছেন, তেমনি এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে শিক্ষার্থীদের ওপর। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পাঠদান কার্যত ব্যাহত হচ্ছে।

এনটিআরসিএর এক কর্মকর্তা জানান, সপ্তম গণবিজ্ঞপ্তিতে মোট ১৮ হাজার ৩৯৯ জন আবেদন করেছিলেন। এর মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ইতোমধ্যে এমপিওভুক্ত ১ হাজার ২৭ জনের আবেদন বাতিল করা হয়, কারণ কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা একই পদে আবেদন করতে পারেন না। বাকি ১৭ হাজার ৩৭২ জন বৈধ প্রার্থীর মধ্য থেকে সব প্রক্রিয়া শেষে ১১ হাজার ৭১৩ জনকে নিয়োগের সুপারিশ দেওয়া হয়েছে।

৫৫ হাজার ৪৯৫টি পদ শূন্য থাকার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, এসব পদের বিপরীতে একই বিষয়ে নিবন্ধিত যোগ্য প্রার্থী বা আবেদনকারী পাওয়া যায়নি।

এনটিআরসিএ জানায়, এবার নিয়োগ সুপারিশপ্রাপ্তদের মধ্যে স্কুল ও কলেজে ৫ হাজার ৭৪২ জন, মাদ্রাসায় ৪ হাজার ২৫৫ জন, কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৩৫৪ জন, কারিগরি বিষয় চালু থাকা সাধারণ স্কুলে ১ হাজার ১৫৫ জন এবং কারিগরি বিষয় চালু থাকা মাদ্রাসায় ২০৭ জন রয়েছেন।

সুপারিশপ্রাপ্তদের তালিকা এনটিআরসিএর ওয়েবসাইটে ‘৭ম নিয়োগ সুপারিশ বিজ্ঞপ্তি (বিশেষ)—২০২৬’ শিরোনামে প্রকাশ করা হয়েছে। নির্বাচিত প্রার্থীরা ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে অনলাইনে ফলাফল দেখতে পারবেন। প্রতিষ্ঠানপ্রধানরাও একইভাবে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে নির্বাচিত প্রার্থীদের তথ্য দেখতে পারবেন। পাশাপাশি রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটকের মাধ্যমে এসএমএস পাঠিয়ে সুপারিশের বিষয়টি জানানো হচ্ছে।

উল্লেখ্য, এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজে ২৯ হাজার ৫৭১টি, মাদ্রাসায় ৩৬ হাজার ৮০৪টি এবং কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৮৩৩টি পদের জন্য গত ৬ জানুয়ারি সপ্তম নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি (বিশেষ)—২০২৬ প্রকাশ করে এনটিআরসিএ।

যেভাবে শিক্ষক নিয়োগ হয়

বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হতে হলে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া বাধ্যতামূলক। একসময় এসব শিক্ষক নিয়োগ পরিচালনা পর্ষদের মাধ্যমে হতো। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নেতৃত্বাধীন এসব পর্ষদের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠায় ২০১৫ সালের ২১ অক্টোবর শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন বিধিমালা সংশোধন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

এর পর ৩০ ডিসেম্বর জারি করা পরিপত্র অনুযায়ী, এনটিআরসিএ মেধার ভিত্তিতে যে প্রার্থীকে সুপারিশ করবে, তাকেই নিয়োগ দিতে হবে। ফলে পরিচালনা পর্ষদের হাতে নিয়োগের ক্ষমতা আর নেই।

নতুন নিয়মে নিবন্ধন সনদ পেতে প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার প্রতিটি ধাপে অন্তত ৪০ শতাংশ নম্বর অর্জন করতে হয়। নিবন্ধন সনদের মেয়াদ তিন বছর এবং ৩৫ বছর বয়স পর্যন্ত প্রার্থীরা নির্ধারিত ফি দিয়ে অনলাইনে আবেদন করতে পারেন। একজন প্রার্থী নিজ বিষয়ে সর্বোচ্চ ৪০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পছন্দ করতে পারেন। প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে এনটিআরসিএ তাদের একটি প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করে। এরপর সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীরা সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যোগদান করেন।

সর্বশেষ - খেলাধুলা