আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তি করতে যাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে বহুল আলোচিত এই চুক্তিতে স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে।
সরকারের বিদায়ের মুখে এমন একটি বড় চুক্তি নিয়ে এরই মধ্যে নানা প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে চুক্তির খসড়ায় কী কী বিষয় রয়েছে, সে সম্পর্কে এখনো কিছুই প্রকাশ করা হয়নি। জানা গেছে, চুক্তির সব তথ্য গোপন রাখার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আগেই একটি নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট (এনডিএ) সই করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সমসাময়িক ইস্যুতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব প্রশ্নের জবাব দেন অন্তর্বর্তী সরকারের বাণিজ্য এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন বিষয়ক উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।
তিনি বলেন, বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর এর শর্তাবলি ও অন্যান্য বিষয় জনসম্মুখে প্রকাশ করা হবে। নির্বাচিত সরকারকে অপ্রয়োজনীয় চাপমুক্ত রাখতেই নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই চুক্তি করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে বছরে প্রায় এক লাখ কোটি টাকার পণ্য রপ্তানি করছে। এই গুরুত্বপূর্ণ বাজার ধরে রাখা এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ক আরও জোরদার করার লক্ষ্যে বোয়িং কোম্পানি থেকে ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব উড়োজাহাজ কিনতে আনুমানিক ৩০ থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে।
তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র প্রথমে বাংলাদেশের কাছে মোট ৪৭টি উড়োজাহাজ কেনার প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে আপাতত ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নতুন এই বাণিজ্য চুক্তির ফলে বাংলাদেশের পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্ক আরও কমবে বলেও আশা প্রকাশ করেন শেখ বশিরউদ্দীন।
তিনি বলেন,
‘আমাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানিতে ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল। আলোচনার মাধ্যমে আমরা সেটা ২০ শতাংশে নামিয়ে এনেছি। যদি এই চুক্তির বিষয়গুলো প্রকাশ না হতো, আমার বিশ্বাস ২০ শতাংশের চেয়েও কম শুল্ক পাওয়া সম্ভব হতো। দুঃখজনকভাবে আমরা সেখানে বিব্রত হয়েছি। বাংলাদেশই একমাত্র দেশ, যেখান থেকে চুক্তির শর্তাবলি সারা দুনিয়ায় প্রকাশিত হয়েছে।’
দায়িত্ব ছাড়ার আগে নিজের সম্পদের বিবরণী জমা দেবেন জানিয়ে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, তার সম্পদের হিসাব ইতোমধ্যে প্রস্তুত রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, তার আগে ২২ জন মন্ত্রী ও উপদেষ্টা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং তিনি এই পদে দায়িত্ব পালনকারী ২৩তম ব্যক্তি।
শুল্ক বিষয়ে তিনি আরও বলেন,
‘৯ ফেব্রুয়ারি যে চুক্তিটি হবে, সেখানে আমরা শুল্ক আরও কতটা কমানো যায়—সে বিষয়ে চেষ্টা করছি। কতটুকু কমবে, তা এই মুহূর্তে বলতে চাই না। আলোচনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত হবে। আমরা সামগ্রিক শুল্ক কমানোর কথা ভাবছি না; আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে গার্মেন্টস খাতে শুল্ক শূন্যে নামিয়ে আনা। সেই প্রচেষ্টা আমরা এখনো চালিয়ে যাচ্ছি।’



















